ডেটা এবং ডেটাবেজ কি?

বর্তমানে ডেটা খুবই শক্তিশালী একটি জিনিস। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো তাদের ইকোনমি নিয়ন্ত্রণ এবং বৃদ্ধি করছে ডেটা ব্যবহার করে। বর্তমানে যার কাছে যত বেশি ডেটা আছে সে তত বেশি ধনী। যেমন ফেসবুক, টুইটার, গুগল ইত্যাদি কোম্পানি প্রতিদিন ডেটা জেনারেট করছে এবং তারা বিশ্বের বাজারে তত বেশি ধনী কোম্পানি হচ্ছে।
প্রতিদিন, প্রতিঘণ্টায়, প্রতি মিনিটে এমন কি প্রতি ন্যানো সেকেন্ডে ডেটা জেনারেট হচ্ছে।

এখন কিছু প্রশ্ন আসতে পারে, এই যে ডেটা জেনারেট হচ্ছে, এই ডেটা গুলো কোথায়? বা কোথায় রাখা হচ্ছে? কোথাও যদি রাখে তাহলে এই ডেটা গুলোকে কিভাবে ম্যানেজ করে বা করছে? অথবা যখন একটা ডেটা দরকার হচ্ছে তখন কিভাবে খুঁজে বের করছে?
এত সব প্রশ্নের উত্তর হলো ডেটাবেজ। এই পর্বে আমরা ডেটাবেজ সম্পর্কে জানবো এবং উপরের প্রশ্ন গুলোর উত্তর খুঁজে বের করবো।

ডেটাবেইজ বুঝার আগে ডেটা সম্পর্কে একটু জেনে নেই। "ডেটার বাংলা অর্থ তথ্য বলা হয়ে থাকে, কিন্তু ডেটার সঠিক বাংলা অর্থ হচ্ছে উপাত্ত। তথ্যের ইংরেজি শব্দ হচ্ছে ইনফরমেশন(Information)।"

কিছু ঘটনার সমষ্টি কে ডেটা বলে। হতে পারে ঘটনা গুলি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, কিন্তু বিচ্ছিন্ন ঘটনা গুলাকে যদি একটু প্রসেস করে বা অর্গানাইজ বা একটা স্টান্ডার্ড ওয়ে তে সাজিয়ে উপস্থাপন করা হয় করা হয় তাকে বলা হয় ইনফরমেশন বা তথ্য।
এখন এই তথ্য যদি আমাদের কে বেনিফিট দেয়, মানে নিদিষ্ট কোন সমাজের অথবা নিদিষ্ট কোন ব্যক্তির ওই ইনফরমেশন টা দিয়ে কোন বেনিফিট পাওয়া যায় তাহলে তাকে বলা যায় নলেজ(Knowledge)।

সুতরাং ডেটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা, তাকে প্রসেস করলে পাচ্ছি ইনফরমেশন এবং এই ইনফরমেশন যদি কাজের হয় তাহলে সেটা হচ্ছে নলেজ।

চলো আমরা একটা উদাহরণ দেখি

এলাকার রাজীবের দোকানে সন্ত্রাসী হামলা
আমিয়াপুর গ্রামের রাজীবের চায়ের দোকানে সন্ত্রাসী রমিজ চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় দোকান ভাংচুর করে।

এখন এই ঘটনা থেকে কি কি পেলাম? এবং এখানে কোন গুলো ডেটা আর কোন গুলা ইনফরমেশন এবং নলেজ?
কার দোকানে হামলা হয়েছে? উত্তরঃ রাজীবের।
কিসের দোকান? উত্তরঃ চায়ের দোকান।
সন্ত্রাসীর নাম কি? উত্তরঃ রমিজ

সুতরাং রাজীব, চায়ের দোকান, রমিজ এই গুলো কে আমরা ডেটা বলতে পারি। আর "এলাকার রাজীবের দোকানে সন্ত্রাসী হামলা" এত টুকু কে ইনফরমেশন বলতে পারি। এবং এলাকার রাজীবের দোকানের আসে পাশে পুলিশ নজর রাখলে সন্ত্রাসী রমিজ কে ধরতে পারবে সুতরাং এখানে পুলিশ বেনিফিট হচ্ছে তাই এটাকে নলেজ বলতে পারি।

আসলে ডেটা হচ্ছে খুবই ক্ষুদ্র একটা জিনিস, এটাকে যদি আমরা প্রসেস করি তাহলে হয়ত বা আমরা ইনফরমেশন পেতে পারি(তবে সব সময় যে ইনফরমেশন পাবো সেটা না), যদি পাই এবং সেটা যদি কোন নিদিষ্ট কিছু কে বেনিফিট দেয় তাহলে সেটা তাদের জন্য নলেজ।

এখন একটু সহজ ভাষায় ডেটাকে বুঝার চেষ্টা করি। আমার নাম "মুশফিকুর রহমান নিলয়" এটা একটা ডেটা। আমি সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছি সো এটা একটা ডেটা। আমার একটা পাসপোর্ট নাম্বার আছে সো নাম্বার টাও একটা ডেটা।
সুতরাং এরকম অনেক রকমের ডেটা আছে। আমাদের চারপাশে যা আছে সব কিছুই ডেটা বলতে পারি।

ডেটা নিয়ে অনেক কিছু জানলাম, সো এখন ডেটাবেজ সম্পর্কে একটু জানবো

আমি উপড়ে বলেছিলাম প্রতি ন্যানো সেকেন্ডে ডেটা জেনারেট হচ্ছে। সো এই ডেটা গুলো কোথায় যাচ্ছে?
আসলে কোথাও যাচ্ছে না, ডেটা গুলোকে একটা জায়গায় সেভ করে বা জমা করে রাখা হচ্ছে। আর যেখানে ডেটা গুলোকে রাখা হচ্ছে তাকে বলা হয় ডেটাবেজ।

যদি সহজ ভাষায় বলি "যেখানে ডেটা গুলোকে অর্গানাইজড ওয়েতে বা সুন্দরভাবে গুছিয়ে রাখা হয় তাকে ডেটাবেজ বলে"

আচ্ছা এখানে গুছিয়ে কেন রাখতে হবে? কারণ ডেটা গুলোকে যেন পরবর্তিতে খুঁজে বের করতে সহজ হয় বা আমাদের যেন কম সময় লাগে। ডেটা গুলোকে গুছিয়ে রাখলে আরও কিছু সুবিধা আছে।

প্রথমত জায়গা কম লাগবে। কারণ আমাদের ডেটা গুলোকে রাখার জায়গা টা মানে ডেটাবেজ নিদিষ্ট পরিমাণ ডেটা জমা করতে রাখতে পারবে। যেহেতু নিদিষ্ট জায়গা থাকবে তাই গুছিয়ে রাখলে অনেক বেশি ডেটা জমা রাখতে পারবো।

দ্বিতীয়ত খুঁজে বের করতে সহজ হবে।একটা বুকশেলফ কে যদি ডেটাবেজ চিন্তা করতে পারি। সো বুকশেলফে যদি সবগুলো বই গুছানো থাকে তাহলে সেখান থেকে খুব খুব সহজেই একটা নিদিষ্ট বই খুঁজে বের করতে পারব। আর যদি গুছানো না থাকে মানে সমস্ত বই এলোমেলো হয়ে থাকে তাহলে বইটা খুঁজে বের করতে সময় লাগবে।

তাহলে ডেটাবেজের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ডেটা গুলোকে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা যেন পরবর্তিতে খুঁজে বের করতে কম সময় লাগে।

কেউ যদি জিজ্ঞেস করে রোল নাম্বার ৩ এর বয়স কত অথবা রোল নাম্বার ৫ এর ব্যাচ আইডি কত? উপরের টেবিল দেখে যে কেউ উত্তর দিতে পারবে।

আজকের পর্ব শেষ করার আগে কিছু মর্ডান ডেটাবেজ সম্পর্কে জানবো।

MSSQL, Oracle, DB2, PostgreSQL, MySQL, MariaDB etc

এই ডেটাবেজ গুলাকে বলা হয় RDBMS (Relational Database Management System)।
MSSQL, Oracle এবং BD2 ব্যবহার করতে হলে টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ এগুলা ফ্রি ব্যবহার করতে পারবেন না।
PostgreSQL, MySQL, MariaDB etc এগুলো ওপেন সোর্স। অর্থাৎ ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারবেন।

রিলেটেড পোস্ট

অ্যালগরিদম কাকে বলে? পর্ব ০১

অ্যালগরিদম নিয়ে কাজ করার পুর্বে তার ইতিহাস জানা দরকার। এই Algorithm শব্দটা এসেছে Algorimit শব্দ থেকে। এটি একটি ল্যাটিন শব্দ। একজন জনপ্রিয় লেখক মুহাম্মদ আল-খাওয়ারিজমি।তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও ভূগোলবিদ।

অ্যালগরিদম এনালাইসিস

মনে করো আমরা একটা প্রোগ্রাম লিখলাম এবং সেখানে অনেক গুলো নির্দেশাবলী (Instructions) লিখেছি কোন একটা সমস্যা সমাধান করার জন্য। যখন আমরা এই প্রোগ্রামটাকে কম্পিউটারে রান করবো তখন দেখতে পারবো যে আমাদের সমস্যাটা সমাধান হচ্ছে।